ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী ও চলমান আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬টার দিকে উপজেলার ছাবের পাইলট স্কুল মাঠে তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদীর কবরের পাশেই তাকে চিরসমাহিত করা হয়। তার চাচা নুরুল হুদা জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাদ আসর সোনাগাজী সাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাযায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। রাফিকে বিদায়লগ্নে একপলক দেখতে আবার অনেকে তার জানাযায় শরীক হতে দূরদূরন্ত থেকে সোনাগাজী ছাবের পাইলট স্কুল ও তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়।

রাফির লাশ আসার সাথে সাথে তার স¦জনদের আহাজারিতে এলাকা চরম বিষাদের ছায়া নেমে আসে। এসময় তার স্বজন, সহপাঠি ও গ্রামবাসীর কান্না দেখে সাধারণ মানুষ ও মিডিয়া কমীরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার দাদা মাওলানা মোশারফ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নাতনি রাফি খুব শান্ত এবং ভদ্র স্বভাবের ছিল। তাকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা আমরা সহ্য করতে পারছি না। তার খালা ছকিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোনাগাজী পৌরসভার কমিশনার মকছুদ আলমকে বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রাফি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এজহারভুক্ত আসামী মাদ্রাসা ছাত্র জোবায়ের হোসেন ও অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার শালির মেয়ে উম্মে সুলতানা পপির ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের ২ জনকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আইনি সহায়তা দেয়ার অভিযোগে ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী বুলবুল সোহাগকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল গণ্যমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম। তিনি বলেন, বুলবুলকে কেন্দ্রের নির্দেশে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিরাজউদ্দৌলাসহ অন্য আসামিদের আইনী সহায়তা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নূর হোসেন জানান, কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের আগেই উপজেলা আওয়ামী লীগ বুধবার বুলবুলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফেনী বারের কোন আইনজীবী সিরাজউদ্দৌলার পক্ষের আর কাজ না করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে নুসরাতের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এড. শাহজাহান সাজু। শাহজাহান সাজু, সাংবাদিকদের জানান, এটি ফেনীর ইতিহাসে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আসামীদের যাতে সর্বোচ্চ সাজা হয় সে লক্ষে তিনি কাজ করে যাবেন। এছাড়া অনেক তরুণ আইনজীবী সেচ্ছায় নুসরাতের পক্ষের হয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য গত ২৬ মার্চ যৌ নিপীড়নের শিকার হয়ে ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করে রাফি। ওই ঘটনায় থানায় মামলা করলে গ্রেপ্তার হয় অধ্যক্ষ। নুসরাতের স্বীকারোক্তি মতে, অধ্যক্ষের নির্দেশেই মামলা প্রত্যাহার করে নিতে তাকে আগুনে ঝলসে দেয়া হয়। এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর খবরে ফেনীজুড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ফেনীর শহীদ মিনার চত্ত্বরে ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দিনব্যাপি বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষকে। তারা নুসরাতের ঘাতক সিরাজউদ্দৌলা ও তার দোসরদের ফাঁসি দাবী করেছেন।

Share Button