নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীতে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবীতে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শনিবার সকাল ১১টায় মানববন্ধন করেছে পরিবার, সহপাঠি ও স্কুল শিক্ষার্থীরা। এসময় হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুলছাত্র হত্যার ঘটনার পুনতদন্ত দাবী করা হয়। নিহত স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন শুভ (১২)’র মা খোদেজা আক্তার স্বপ্না, জ্যাঠা ইসমাইল হোসেন ও মুত্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর বলেন, ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া একটি ছেলেকে তার সহপাঠি এমন পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় হত্যা করতে পারে না।
এ ঘটনার পেছনে নিশ্চয়ই সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। পুলিশ ৮ আসামীকে আটক করলেও অভিযুক্ত করেছে মাত্র একজনকে। হত্যাকান্ডের সাথে ৩ জনের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পেলেও ২ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শুভর পরিবারের সাথে কোনরুপ যোগাযোগ না করে পুলিশ দায়সারা কাজ করছে অভিযোগ করে তারা ঘটনার পুনরায় তদন্ত দাবী করেন। নুসরাত জাহান হত্যার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টায় পুলিশের তদন্তে তারা আস্থা হারিয়েছেন জানিয়ে অন্য কোন সংস্থার মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেন। পাঁচগাছিয়া বাজারের মতো এমন জনবহুল এলাকায় শুভকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা অকল্পনীয়। একার পক্ষের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রের এমন দুঃসাহসিক অভিযান সম্ভব নয়। ঘটনার আড়ালের কারিগরদের বের করতে এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও অধিকতর তদন্তের দাবী করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
মানববন্ধনে শুভর পরিবারের সাথে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখে ফেনী পৌর মেয়র হাজী আলাউদ্দীন, আ’লীগ নেতা কেবিএম জাহাঙ্গীর আলম, জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি রোটা. এম মামুনুর রশিদ, মানবাধিকার নেতা এমএ দেওয়ানি, সাংবাদিক যতন মজুমদার ও শাহজালাল ভূজ্ঞা প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, সমবয়সী একটি ছেলে আরেকটি ছেলেকে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করতে পারে না। তার একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। এ হত্যাকান্ডে নিশ্চয়ই কোন চক্র জড়িত রয়েছে। তারা এ ঘটনার পুনঃতদন্ত দাবী করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জোর দাবী জানান।
উল্লেখ্য: গত ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের দিন বিকাল ৪ টার দিকে আরাফাত হোসেন শুভকে বাড়ি থেকে খেলার কথা বলে ফোনে ডেকে নেয় সহপাঠি ইসমাইল হোসেন ইমন (১৪)। রাত অবধি বাড়িতে না যাওয়ায় তাকে খোঁজাখুঁজির পর বাজারের একটি দোকানের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় শুভর সাইকেলটি পায় স্বজনরা। পরদিন এ ঘটনায় ফেনীর আদালতে নিখোঁজের জিডি করা হয়। এর ১ সপ্তাহ পর সন্দেহভাজন আসামী ইমনকে আটক করা হলে তার দেয়া তথ্যমতে পুলিশ ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ২ টার সময় বাজারের পেছনের ঝোঁপঝাঁড় থেকে শুভর লাশ উদ্ধার ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার ফেনী সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ডভুক্ত জবানবন্দি দেয় ইমন। এসময় ইমন জানায়, একটি মেয়ের মোবাইল নাম্বার না দেয়ায় শুভর সাথে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তার মাকে নিয়ে গালমন্দ করায় সে এ হত্যার ঘটনা ঘটায়। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করলেও ইমনই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে শুভর পরিবারকে নিশ্চিত করে। নিহত শুভ ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামের কালা মিয়া কন্ট্রাক্টর বাড়ির ইমাম হোসেন ও খোদেজা আক্তার স্বপ্নার প্রথম ছেলে। তার ছোট আরো ২ ভাই বোন রয়েছে।

Share Button