সোনাগাজী সংবাদদাতা: ফেনীর সোনাগাজীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য তথ্য গোপন করে ভূমি অধিগ্রহনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে সোনাগাজী উপজেলা ভূমি মালিক ও কৃষক ঐক্য পরিষদ। মঙ্গলবার সকালে সোনাগাজী বাজারের জিরোপয়েন্টে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এসময় বক্তারা বলেন, সরকার ও বেজা দেশের সর্ব বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ফেনীর সোনাগাজী ও চট্রগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ৩০ হাজার একর ভূমি অধিগ্রহনের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলার ৭টি মৌজার প্রায় ১৭হাজার একর ভূমি অধিগ্রহনের কার্যক্রম শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় থাক খোয়াজের লামছি মৌজার একাংশ, চরএলেন, চর নাছরিন, বাহির চর, দক্ষিণ চরখোন্দকার ও চরখোন্দকার মৌজার ভূমি অধিগ্রহনের লক্ষে নোটিস জারি করেন। তারা বলেন সোনাগাজী উপজেলার ৭টি মৌজার মধ্যে ৬টি মৌজার জমি অধিগ্রহন করলে এলাকাবাসীর কোন আপত্তি থাকবেনা। কিন্তু একটি মৌজার ভূমি নিয়ে মালিক ও কৃষকদের আপত্তি রয়েছে। চরখোন্দকার মৌজার চরখোন্দকার গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। ওই মৌজায় প্রায় ১হাজার ৭০০ একর জমি তিন ফসলী জমি। এছাড়া উক্ত মৌজায় মৎস্য প্রকল্প, আমন, আউশ ও বরো মৌসুমে রবি শস্য উৎপাদন হয়। উক্ত জমিগুলো লায়েক পতিত আখ্যা দিয়ে তথ্য গোপন করে ভূমি অফিসের এক শ্রেনির অসাধু কর্মকর্তারা কতিপয় ভূমি দস্যুদের সাথে আঁতাত করে ভূমি অধিগ্রহনের জন্য নোটিস জারি করেছেন। নোটিস পেয়ে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। তারা আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন কোন ফসলি জমি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অধিগ্রহন করা হবেনা। অথচ তিন ফসলি জমি ও গ্রাম উচ্ছেদ করে ভূমি অধিগ্রহন করার পাঁয়তারা করছে অসাধু চক্রটি। আমরাও চাই সোনাগাজীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মিত হোক।

কিন্তু তিন ফসলী ভূমি ও বাড়ি ঘর উচ্ছেদ করে ভূমি অধিগ্রহন করলে এলাকাবাসী যাবে কোথায়? এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সামুদ্রিক মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। হাজার হাজার গরু-মহিষ, ভেড়ার চারণ ভূমি রয়েছে এই মৌজায়, এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে একটি কেওড়া বাগান। চেখোন্দকার মৌজাটি অধিগ্রহনের আওতায় আনলে জীব বৈচিত্রও হুমকির মুখে পড়বে। এই মৌজাটি অধিগ্রহনের আওতায় নিলে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছি। চরখোন্দকার মৌজাটি অধিগ্রহনের আওতায় আনলে এলাকার নদী উকূলীয় জনপদের কয়েক হাজার কৃষক, জেলে ও প্রাণি সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত খামার মালিক শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়বে। তাই আমরা চরখোন্দকার মৌজাটি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। পাশ্ববর্তী মীরসরাই উপজেলার অংশে ভূমি অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে প্রতিশতক জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। অথচ সোনাগাজীর চরখোন্দকার ও দক্ষিণ চরখোন্দকার মৌজায় জমির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে মাত্র ৩৫০টাকা। বর্তমানে এক কেজি পেঁয়াজের দামের চেয়েও কম। সোনাগাজীর ভূমি মালিক ও কৃষকদের নি:স্ব করার হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে দেয়া হবেনা। সোনাগাজী উপজেলা ভূমি মালিক ও কৃষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মৃধার সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, পৌর আ.লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নূরআলম মিস্টার, সোনাগাজী পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ কালিম উল্যাহ রয়েল, সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি বাহার উদ্দিন ভূঞা, কৃষক লীগ নেতা হারুনুর রশিদ, আবুল কালাম বাহার, মজিবুল হক, আবু সুফিয়ান, সিরাজুল হক ও সাবেক ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন প্রমূখ।

Share Button