নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশ সরকারের উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮(৭) ধারার বিধান মোতাবেক ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল স্ব-পদে বহাল রয়েছেন। এরপরও চিহ্নিত একটি কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র, হয়রানিমূলক রিট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা আ’লীগের নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্র জানায়, দেশব্যাপি পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে ছাগলনাইয়ায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ভোট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল ।

নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ছাগলনাইয়া উপজেলা আ’গের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পান । এছাড়া আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এড. শহীদ উল্লাহ ও  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবদুল হালিম মনোনয়নপত্র জমা দেন। ৬ মার্চ যাছাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থীতা ফিরে পেতে রিটানিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করলেও তারা প্রার্থীতা ফিরে পাননি।এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশন নৌকার প্রার্থী সোহেল চৌধুরীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে।

এদিকে প্রার্থীতা হারানো ২জন তাদের মনোনয়ন ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করলে বিচারক তাদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে আদেশ দিলেও ২৫ মার্চ সোমবার চেম্বার জাজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত ২ প্রার্থীকে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করে । ১ এপ্রিল আপিল বিভাগের পুর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চেম্বার জজের রায় বহাল রেখে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য হা্ইকোর্ট বিভাগে পাঠান । পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে স্থগিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরীর পদে থাকা নিয়ে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কাজী জায়েদ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক হাইকোর্টে রিট করেন । হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালূকদারের বেঞ্চ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান,স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ফেনী জেলা প্রশাসককে নোটিশ প্রদান করেন।

২ সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়। ২০১৯ সালের ৭ মে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার স্মারক নং- ০৫.২০.৩০০০০.০০৬.১৮.০১২.১৯-৮৭-এ উপজেলা পরিষদের আর্থিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে উপজেলা পরিষদ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৭ এর আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় । উপজেলা পরিষদের মেয়াদ নিয়ে ৭ ধারা ৫৩ এর বিধান সাপেক্ষে, পরিষদের মেয়াদ হইবে উহার প্রথম সভার তারিখ হইতে পাঁচ বছর। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত নতুন পরিষদ উহার প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাগলনাইয়া উপজেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজিব বলেছেন, একটি চিহিৃত মহল অহেতুক হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের নেতা সোহেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে রিট করে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
উপজেলা আ’লীগ সভাপতি নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেছেন, মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল সরকারী নিয়ম নীতি অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন । ছাগলনাইয়া পৌরসভার মেয়র ও পৌর আ’লীগ সভাপতি এম. মোস্তফা জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদের আইন অনুযায়ী সোহেল চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন । দলগতভাবে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে যে কেউ অবস্থান নিলে তিনি তা সমর্থন করেন না এবং যেকোন কিছুর বিনিময়ে তারা দলের নেতার পক্ষে কাজ করবেন বলেও নিশ্চিত করেন মেয়র এম. মোস্তফা ।

Share Button