নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আ’লীগের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, জেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি, প্রবীণ রাজনীতিবিদ আজিজ আহমদ চৌধুরী মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি……..রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মৃত্যুকালে দুই ছেলে রেখে গেছেন।
আ’লীগ সরকারের হাতে জেলা পরিষদের নতুন রুপে আবির্ভাবের প্রথমেই আজিজ আহম্মদ চৌধুরীকে ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। আজিজ আহম্মদ চৌধুরী ১৯৩৯ সালের ২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুলতান আহম্মদ চৌধুরী ও মা আজিজের নেছা চৌধুরানী। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের হাসানপুর চৌধুরী বাড়ী।
ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করার পর শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। কিছুদিন পর রাজনীতি আর সমাজসেবায় সক্রিয় হন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯৪ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে আনন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৭৩ সালে ছাগলনাইয়া থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
৭৯ থেকে ৮৪ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও ৮৪ সাল থেকে ৯৯ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন সভাপতি আবুল কাশেম মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিযুক্ত হন। ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে জাতীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মনোনীত হন। জীবদ্দশায় ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সভাপতি ছিলেন।
নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত শাহ আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আমৃত্যু সভাপতি।
এছাড়া ফেনী ডায়াবেটিক সমিতি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রোগী কল্যাণ সমিতি, প্রবীণ হিতোষী সংঘসহ অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বাবা সুলতান আহম্মদ চৌধুরীর নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন ‘সুলতান এন্ড সন্স’। তার ছোট ছেলে চৌধুরী আহমেদ রিয়াদ আজিজ রাজীব জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

Share Button