ভুক্তভোগির ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহিত: ফেনী পাসপোর্ট অফিসে আমার পাসপোর্টের রি ইস্যু করার জন্য আবেদনের ফরমসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন আমি নিজেই কিন্তু কাগজপত্র জমা দিতে গেলে)(1ম) দিন অফিস সহকারী জানান আমার ছবি পুরাতন এটা হবেনা চলে আসলাম ,যদিও আমার ছবি কোন ইস্যু না কারণ আমি রি ইস্যু করতেছি ?)(2য় ) দিন ছবি পরিবতন করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্স এর একজন সিনিয়র অফিসারকে দিয়ে সত্যায়ন করালাম আবার গেলাম কোন এুটি খুজে না পেয়ে বলে এই সত্যায়ন হবেনা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান এর সত্যায়ন লাগবে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন হবেনা সে আমাকে ধমক দিয়ে বলে যেটা বলছি ওটা করতে হবে আবেদন জমা নেওয়া হবে না। ঠিক করে নিয়ে আসেন। এটা গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকের কথা।
সেই সময় একজন অফিস সহকারী বলেছিলেন, ‘এসব ভুল কোনো ব্যাপার না; দেড় হাজার করে টাকা দেন, সময়মতো এসে পাসপোর্ট নিয়ে যাইয়েন।’ কিন্তু আমি ঘুষ দিতে রাজি হয়নি ।(3য় দিন) মঙ্গলবার কাগজপত্রে যেসব ভুল ধরা হয়েছিল সেগুলো সংশোধন করে পরের দিন জমা দিতে যাই ।কিন্তু এদিন আবার নতুন ভুল ধরে আমার কাগজপত্র আর জমা নেওয়া হয়নি। উদ্ধোতন কর্মকর্তার ধরনা দিয়ে ও কোন লাভ হয়নি সবাই একই গন্তব্যের পথিক ।
নানা ভুলত্রুটি থাকলেও নজরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তির পাসপোর্টের আবেদন ঠিকই জমা নেন । বিনিময়ে তাঁর কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা নিয়েছেন।ফেনী পাসপোর্ট অফিসে এভাবেই মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন চলছে ঘুষের লেনদেন। পাসপোর্টের আবেদন জমা নেওয়ার নামে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লেনদেন হচ্ছে। কখনো বাইরের দালালদের মাধ্যমে, কখনো পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের মাধ্যমে পাসপোর্টপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা করে লেনদেন করছেন ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক থেকে শুরু করে অফিস সহকারী আনসারের পিসি আনসার সদস্য ওই অফিসের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী টাকা ছাড়া পাসপোর্টের আবেদন জমা নেন না। কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ টাকা দিলে এক দিনেই আবেদনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে দেন তাঁরা। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কোনো একদিন এসে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিয়ে যায় আবেদনকারীরা। কিন্তু টাকা না দিলে ফেনী পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষের কোনো আবেদন জমা নেওয়া হয় না। নানা ধরনের ভুলত্রুটি ধরে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। গত দুই-তিন দিন ধরে আমি নিজেই এর ভুক্তবোগী ।
তবে টাকা না দেওয়া আবেদনকারীদের হয়রানির শেষ নেই। পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরে যেতে হয় তাদের। শেষে বাধ্য হয়ে একসময় হার মানে এবং দেড় হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট করায়।
ফেনীর মধ্যে এখন এই অফিসটিতেই সবচেয়ে খোলামেলা টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু এ নিয়ে কেউ কখনো প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। সরকারি অফিস ও পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হাতে পাওয়ার জন্য কেউ এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে চায় না। নীরবে টাকা দিয়ে চলে যায় সাধারণ মানুষ। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী বা প্রভাবশালী আমলা বা সরকারি কর্মকর্তা হলে টাকা ছাড়াই ব্যবস্থা হয়ে যায় ।তখন তারা বৈধ পথের পথিক সবাই । এর বাইরে এবং অন্তত এক হাজার ৫০০ টাকা ছাড়া এই অফিসে একটি আবেদনও জমা নেওয়া হয় না।’
যারা নিজের পাসপোর্ট নিজে করতে গেছেন একমাত্র তারাই বলতে পারবেন পাসপোর্ট অফিসে কেমন হয়রানি করে তার। ফেনীর জনপ্রতিনিধি এবং উদ্ধোতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি । যাতে আমরা সাধারণ মানুষ এমন হয়রানি থেকে বাঁচতে পরি ।
(copy rimon khan)
Share Button