নিজস্ব সংবাদদাতা: ফেনী সদর আসনের এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারীর ছবি বিকৃত করায় অভিযোগ এনে ফেনীতে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জনকে আহত করেছে আ’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবী লংমার্চে অংশ নেয়া সমাজতা্ন্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতাদের।
“ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ” এর নয় দফা দাবীতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামবেশ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ফেনী জেলার সংগঠক জোবেদা আক্তার কচি, উদীচী ফেনী সংসদের সহ-সভাপতি মৌসুমি সোম, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে ফেনী জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে প্রথম দফায় শহরের নাজির রোডের মিশন হাসপাতালের সামনে ও দ্বিতীয় দফায় খাজুরিয়া রোডের মাথায় লংমার্চে হামলা চালানা হয় এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন। সমাজতন্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা জানান, ধর্ষণবিরোধী শান্তিপূর্ণ লংমার্চে বিনা উস্কানিতে হামলা চালায় আ’লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে তাদের অন্তত ২শ নেতাকর্মী আহত হবার দাবী করেন তিনি।
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের ফেনী জেলা সংগঠক সালমা আক্তার কলি বলেন, তার সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফেনী শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক পংকজনাথ সূর্যের সঞ্চালনায় সকাল ১০ টা থেকে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ চলাকালে লং মার্চকারীরা ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্বরে বিভিন্ন ফেস্টুনে ধর্ষণের প্রতীকি চিহ্ন ও ধর্ষণ বিরোধী শ্লোগান লিখেন। তারা কোন এমপির ছবিতে অশালীন মন্তব্য লিখেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশে সরকার ও পুলিশকে উদ্দেশ্য করে একটানা শ্লোগান দিলে আ’লীগ কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় লং মার্চ কর্মী আসমানী আশা, রিপা মজুমদার, হৃদয়, শাহাদাত, জাওয়াদ, আনিকাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া একাত্তর টিভি’র ফেনী প্রতিনিধি জহিরুল হক মিলু, ক্যামেরাম্যান সাজু, সাপ্তাহিক হকার্স’র প্রতিনিধি ইয়াছিন আরাফাত রুবেল আহত হন। মাসুদ রানা আরো বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের মারধর ও ৬টি গাড়ী ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
ফেনী সদর উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল জানান, লং মার্চকারীরা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর ছবিতে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ লেখায় সাধারণ মানুষ তা প্রতিহত করেছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড আইন করলেও একটি চক্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
এদিকে বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে জেলা ছাত্রলীগ। জেলা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সমাবেশে বিশৃঙ্খলার খবর শুনে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।
Share Button