ফুলগাজী সংবাদদাতাঃ  পুত্রবধু ও ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে রাতের আঁধারে থানায় এলেন বৃদ্ধ মা-বাবা। এ ঘটনায় ওসি মামলা না নিয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের থানায় ডেকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস পাটোয়ারী (৭৫) ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬৫) মঙ্গলবার (২৫ মে) রাতে ছেলে ও পুত্রবধুর অত্যাচার থেকে প্রতিকার পেতে থানার শরণাপন্ন হন।
এসময় তারা জানান, দাম্পত্য জীবনে তাদের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে তারা সুখেই জীবন যাপন করছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাধে সেজো ছেলে জামাল উদ্দিন (৩৫)-কে বিয়ে করানোর পর। তাকে ছাগলনাইয়া উপজেলার বাথানিয়া গ্রামের সাজিনা আক্তার (৩০) নামে এক মেয়েকে বিয়ে করানো হয়।
এদিকে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সাজিনা স্বামীর অনুপস্থিতিতে শ্বশুর শাশুড়ীর সাথে অশোভন আচরণ শুরু করে। দিন যতই বাড়ে, সে ততই বেপরোয়া হয়ে উঠে। বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস ও হালিমা খাতুন জানান, বর্তমানে সাজিনা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। সামান্য কথাতেই সে দা, বটি নিয়ে শ্বশুর, শাশুড়ির দিকে তেড়ে আসে। পুত্র জামাল করোনার কারণে গত কয়েক মাস চাকুরি ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান করছে। আয় রোজগার না থাকায় সেও বউয়ের সাথে জোট বেঁধে মা-বাবাকে যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছে।
বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার অবগত হয়ে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবা বিচারের দাবীতে রাতের আঁধারে  থানায় ছুটে আসেন। থানার নতুন ওসি এএনএম নুরুজ্জামান বৃদ্ধ মা-বাবার উপর এমন নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা শুনে ছেলে ও তার বৌকে থানায় ডেকে কঠোরভাবে বিষয়টি সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।
নিজের মা-বাবার জন্য যা করতেন, এক্ষেত্রেও তিনি তাই করবেন। অভিযুক্তদের থানায়  এনে মা-বাবার প্রতি সৌজন্যবোধ, ভরণ পোষণ, সদাচরণ করার বিষয়ে সতর্ক করবেন বলে নিশ্চিত করেন।
Share Button